Review

ক্যাপ্টেন (Captain) ২০১৮ মুভি কথন

═══════════════════════════
》 মুভি: ক্যাপ্টেন (Captain)
》 জনরা: বায়োগ্রাফিক্যাল স্পোর্টস ড্রামা
》 ডিরেক্টর: প্রাজেশ শেন
》 অভিনয়: জয়াসূরিয়া, আনু সিথারা, রেঞ্জি পানিকার, দিপক পারম্বল
》 আইএমডিবি: ৭.৫ (https://imdb.to/2JKEkUr)
》 রিলিজ ইয়ার: ২০১৮
》ডিউরেশনঃ ২ ঘন্টা ২৫ মিনিট
》ট্রেইলারঃ https://bit.ly/2LNJxv2
═══════════════════════════
.
.
আজকে ঘোষণা করা হয়েছে কেরালা স্টেট এওয়ার্ড। যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ভিপি সাত্যিয়ান। কি অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা, হাইপওয়ালা গার্ভেজ মুভিতে ডুবে থাকলে অবাক হওয়াটা আশ্চর্যের নয়। হয়তোবা এখন কেউ কেউ গুগোল সার্চ কিংবা বিজয়ী লিস্ট চেক করবেন কিন্তু এই নামের কাউকে পাবেন না। পাওয়ার কথাই না, কেননা ভিপি সাত্যিয়ান কোন অভিনেতা না এবং তিনি কোন পুরস্কারও জিতেননি। তাহলে আমি কেন তার নাম উল্লেখ করলাম? কারণটা অন্য জায়গায়।

ভিপি সাত্যিয়ান! ইন্ডিয়ান ফুটবল লিজেন্ড। অনেকটা বিতর্কিতও বটে। কথায় আছে, সামান্য একটি ভুলও সারাজীবনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনই মর্মান্তিক বেদনা ঘটেছিল ভারতীয় ফুটবল লিজেন্ড ভিপি সাত্যিয়ানের সাথে। ফুটবলে পেনাল্টি মিস নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু আবার সেই একটা পেনাল্টি মিসই হয়ে দাঁড়ায় কাল হয়ে। এ যুগের ফুটবল ভক্তরা অবশ্য তা নিজ চোখেই দেখেছেন। গত ২৬ বছরে কোন শিরোপা জিততে না পারা আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতার সহজ সুযোগ হারায় ফাইনালে লিও মেসির এরকম পেনাল্টি মিসের কারণে। যার দরুণ অনেকটা রাগে-দুঃখে জাতীয় দল থেকে অবসরেও চলে যান তিনি (যদিও অবসর ভেঙ্গে আবারও ফিরেছেন)। ভিপি সাত্যিয়ানের গল্পটাও অনেকটা এরকম। তবে তার গল্পটা ছিলো এরচেয়েও ভয়ানক। ফাইনাল ম্যাচের এক পেনাল্টি মিস করার দরুন এই তারকা ফুটবলার ভেঙ্গে পড়েন মানসিক ভাবে তার সাথে সাথে তাকে পড়তে আর্থিক খাঁড়ায়।

ছোটবেলা থেকে ফুটবলের নেশা থাকলেও জীবিকার তাগিদে একসময় যোগ দেন পুলিশে। কিন্তু ভাগ্যের লিখন কি আর খন্ডন যায়। ছোট্ট থেকেই তার ফুটবল উন্মাদনা আর প্রতিভা ছিলো অবাক করার মতো। প্রতিভার প্রতিদান স্বরুপ একসময় হোন ইন্ডিয়ান জাতীয় দলের অধিনায়কও। ফুটবল তার কাছে ছিলো প্রথম ভালোবাসার মতো। বারবার ইঞ্জুরি সত্ত্বেও ফুটবল নিয়ে তার প্যাশন কখনো ছিটেফোঁটাও কমতো না। ডাক্তারের সম্পূর্ণ বার সত্ত্বেও দেশের হয়ে ফুটবল খেলে যেতেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। ফুটবল নেশায় থাকতেন সারাদিন মত্ত হয়ে। কিন্তু সময় সবসময় সঙ্গ দেয়না। তেমনি একসময় সুসময়ও সাত্যিয়ানের সঙ্গ ছেড়ে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফাইনাল ম্যাচে করে বসেন পেনাল্টি মিস। তার প্রভাব আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করে তার ব্যাক্তি জীবনে। তাকে নিয়ে যায় মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্ত।

পৃথিবীর বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতেই বায়োপিকের মেলা দেখা যায়। তবে মালায়ালামে সংখ্যাটা হাতেগোনা। তবে সেই তুলনায় ভিপি সাত্যিয়ানের জীবনী নির্ভর (ক্যাপ্টেন) মুভিটি মালায়লাম সিনেমাতে অন্য এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। বায়োগ্রাফিক্যাল মুভি হলেও অন্য সব গৎবাঁধা বায়োগ্রাফিকাল মুভি থেকে ক্যাপ্টেন সম্পূর্ণ আলাদা। বায়োগ্রাফিক্যাল মুভিতে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যক্তিজীবনের বাস্তবিক প্রতিচ্ছবির সাথের চিত্রের অভিনয়শিল্পীর তুলনা চলে আসে। আর যদি ব্যক্তিজীবন কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব পড়ে জয়সুরিয়ার ঘাড়ে তাহলে আপনি নিশ্চিত হয়ে যায় তিনি এতে শতভাগ সফল হবেন। করেছেনটাও তা, ভিপি সাত্যিয়ানকে এমন ভাবে পর্দায় রূপায়ন করেছে যে কারোরই কখনো মনে হবে না আপনি কোন মুভি দেখতেছেন। মুভিতে সেই সময়কার অর্থাৎ অতীত এবং বর্তমান দুটো সময়কেই প্রাধান্য দিয়ে দেখানো হয়েছে। মুভির ডিরেকশন, ভিপি সাত্যিয়ানের ব্যাক্তিগত/প্রফেশনাল লাইফের টানাপোড়েন, সংগ্রাম, নিখুঁত অভিনয়ের কারণে মুভিটা দেখতে বসলে মনে হবে আপনি কাছ থেকে ভিপি সাত্যিয়ানকে দেখতেছেন।

মুভিতে ভিপি সাত্যিয়ান রূপে ছিলেন মলিউডের প্রিয় অভিনেতা জয়াসূরিয়া। ভিপি সাত্যিয়ানের জীবনী তিনি এমনভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন যে যার পুরস্কার স্বরূপ আজ বগলদাবা করেছেন এ বছরের কেরালা স্টেট এওয়ার্ড পুরস্কার যা শুরুতেই বলেছিলাম। তবে এদেশের অধিকাংশ সাউথ তথা মুভি প্রেমীদের দূর্ভাগ্য যে তারা এই মানুষটাকে চিনে না। ক্যাপ্টেন মুভিতে জয়াসুরিয়ার জায়গায় যদি এখন অন্য কেউ থাকতো তাহলে হয়তো তার ডেডিকেশনের জন্য তুলকালাম হয়ে যেত বিভিন্ন গ্রুপে, পার্সোনাল টাইমলাইনে। আজকাল অনেকেই অনেক তথাকথিত নায়ককে আন্ডাররেটেড ট্যাগ দিয়ে দেয়। তারা যদি আন্ডাররেটেড হয় তাহলে জয়াসূরিয়া হলো আন্ডাররেটেডের বাপ। তাছাড়া যারা মাসালা মুভির প্র্যাক্টিক্যাল জিনিস দেখতেও টিস্যুর বক্স নিয়ে বসেন তারা দয়াকরে এই মুভি দেখার আগে টিস্যুর ফ্যাক্টরি নিয়ে বইসেন। কেননা ক্যাপ্টেন এমন এক গল্প যে গল্পের পরতে পরতে রয়েছে আবেগ, উত্তেজনা আর সাসপেন্সের দারুণ এক মিশাল। এটা এমন একজনের গল্প যে ফুটবলকে তার নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। বসন্তের এই বর্ষামুখর শীতল রাতে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে চটজলদি দেখে নিতে পারেন জয়াসূরিয়ার এওয়ার্ড জয়ী অভিনয়। হয়তোবা অসাধারণ কিছু লাগবেনা কিন্তু কথা দিচ্ছি অবশ্যই ভালো লাগবে। তবে যারা অভিনয় আর মাইন্ডফ্রেশ মুভি দেখতে ভালোবাসেন তাদের কাছে অসাধারণ লাগলেও লাগতে পারে। মুভির বাংলা সাবটাইটেল আছে…..

বাংলা সাবটাইটেলঃ••► http://bit.ly/CaptainMorsalinTanvir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close